
গ্রাহকের গুলিতে নিহত ইউসুফ রাজু (৪৪)।ছবি: সংগৃহীত
মানবাধিকার কন্ঠ অনলাইন
রেস্তোরাঁয় খাবারের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডায় জনৈক গ্রাহকের গুলিতে একজন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। নিহতের নাম ইউসুফ রাজু (৪৪)। গুলির এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে অপর একজন। তার নাম রাসেল (৩৯)।
ঘটনাটি ঘটে নিউইয়র্ক সময় রবিবার ভোরে ব্রুকলিনের ৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ রেস্তোরাঁয়এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাজু ও আহত রাসেল ঐ রিস্তোরা কর্মচারী!
জানা গেছে, রবিবার ভোর বেলায় এক গ্রাহক খাবারের বিল পরিশোধ না করেই রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় সেখানে কর্মরত রাজু ও রাসেল তাকে বিল পরিশোধ করতে বললে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে উক্ত গ্রাহক পিস্তল বের করে তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়।

গুলিবিদ্ধ দুইজনকে দ্রুত কাছের ‘ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে’ নিয়ে যান। ঐ হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রাজুর মাথায় এবং আহত রাসেলের পায়ে গুলি লাগে। নিহত ইউসুফ রাজু ও আহত রাসেলের বাড়ী নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলারআমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে। দুই শিশুসন্তান সহ রাজু’র স্ত্রী ও পিতামাতা ভাইবোন দেশে থাকে।
ব্রুকলিনের নোয়াখালী সোসাইটি থেকে নিহত রাজুর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজুর পরিবারের সদস্যরা তার মৃতদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন উক্ত সোসাইটির কাছে।
নিহত রাজু সীমান্ত পরিধি অবৈধভাবে নিউইয়র্কে প্রবেশ করে। পরে রাজিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। এই সময়ে রাজু ওই রেস্টুরেন্টটিতে কাজ করতে থাকেন।
নিউইয়র্ক পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। হত্যাকারী ঘটনার পরপরই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। রাজু’র মৃতদেহ দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে। এদিকে রাজু’র মৃতদেহ দেশে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সোসাইটিসহ অন্য সমিতিগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা করা হয়েছে।
নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশী প্রবাসীরা এ হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি জানিয়েছেন।
বি:দ্রষ্টব্য -সকল ছবি সংগৃহীত।








