
জেদ্দা ও ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর: ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে যাতায়াতকারী ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবে ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে অন্তত ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে এ বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবগামী ট্রানজিট ফ্লাইটও এর আওতায় রয়েছে। ফলে শুধু সৌদিগামী যাত্রী নন, অন্য দেশ হয়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েছেন।
রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার পর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও কার্যক্রমের প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য বিমান চলাচল বন্ধ রাখে। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরটি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনভিত্তিক হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে সতর্কতা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো ফ্লাইট পরিচালনা, যাত্রী নিরাপত্তা ও পরবর্তী সময়সূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটে প্রভাব
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ১২টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারসহ একাধিক সংস্থার ফ্লাইট চলাচল এতে প্রভাবিত হয়েছে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের সৌদিগামী সংযোগ ফ্লাইটেও বিঘ্ন ঘটেছে।
ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মরত স্বজনদের কাছে যাওয়া, কাজে যোগ দেওয়া কিংবা ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ব্যক্তিদের নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণ করতে হতে পারে।
যাত্রীদের জন্য করণীয়
এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। টিকিট পুনর্নির্ধারণ, বিকল্প ফ্লাইট অথবা অর্থ ফেরতের বিষয়ে নিজ নিজ বিমান সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে ফ্লাইটের সিদ্ধান্তও বদলাতে পারে। তাই পুরোনো সময়সূচির ওপর নির্ভর না করে বিমান সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের তথ্য যাচাই করা জরুরি।





