
নিহত সিফাত। ছবি: সংগৃহীত
মানবাধিকার কন্ঠ প্রতিবেদক
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর, সবুজবাগ ও আমিন বাজারে পৃথক ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ২জন আহত হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সরদার গলি এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইমরান হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তি , তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে এসে প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে নিহত সিফাত নামে যুবক ও সাভারের আমিন বাজারে ছেলের সামনেই পুলিশের এসআইকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুরবৃত্তরা।
যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ১, আহত ১
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সরদার গলি এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইমরান হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মো. জাকারিয়া (৩৩) নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত জাকারিয়া বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধলপুর সরদার গলিতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে জাকারিয়ার রিকশার গ্যারেজের সামনে ইমরান ও জাকারিয়া বসে ছিলেন। এ সময় হেলমেট পরা কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে সেখানে এসে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, চারটি মোটরসাইকেলে ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি সেখানে এসেছিলো।
গুলির সময় হামলাকারীদের একজনকে ‘ইমরান, দৌড় দিবি না’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায় বলে জানান আহত জাকারিয়া। একপর্যায়ে গুলির একটি তাঁর পায়ে লাগ ইমরানের মাথায় গুলি লাগে।
আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রাত ১২টার দিকে ইমরান হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। জাকারিয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইমরানের মাথায় গুলির আঘাত ছিল। আহত জাকারিয়ার শরীরেও গুলির আঘাত রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর পা ও হাতে গুলি লাগার তথ্য পাওয়া গেছে।
জাকারিয়ার স্ত্রী ঝিনুক আক্তার জানান, ধলপুর সরদার গলিতে তাঁর স্বামীর একটি রিকশার গ্যারেজ রয়েছে। ঘটনার সময় গ্যারেজের সামনে ইমরান ও জাকারিয়া বসেছিলেন। চারটি মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা ৭–৮ জন তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে তিনি জানান।
ঘটনার খবর পেয়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুলিতে একজন নিহত ও একজন আহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে কাজ চলছে।
এদিকে, একটি প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলির খোসা উদ্ধারের তথ্যও জানানো হয়েছে। তবে হামলাকারীদের কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, নিহত ইমরান হোসেনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে।
তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে এসে প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের

তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে এসে ওই তরুণীর প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে সাইফুদ্দিন সিফাত (২৮) নামের এক যুবক নিহত হন। প্রেম ঘটিত বিরোধের জেরে রাজধানীর সবুজবাগে রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টার দিকে আদর্শ পাড়া বরইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান , নেহা নামের এক তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে মোটরসাইকেল চালিয়ে ওই এলাকায় যান সিফাত।এসময় তাদের এক সঙ্গে দেখে ফেলে ঐ তরুনীর প্রেমিক জয়।
পরে ক্ষিপ্ত হয়ে আরও দুই তিনজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সিফাতকে ছুরিকাঘাত করে প্রেমিক জয়গুরুতর আহত সিফাতকে প্রথমে মুগদা হাসপাতাল পরে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সিফাত মারা যান। সে রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকার ৩১৯ নম্বর বাসার জয়নাল আবেদীনের ছেলে। নিহত সিফাত পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।নিহতে বন্ধু হাসান জানান, নেহার সঙ্গে জয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রোববার মোটরসাইকেল নিয়ে নেহার সঙ্গে দেখা করতে যান সিফাত। বিষয়টি জয় দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হন। পরে তিনি আরও দুই-তিনজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সিফাতের ওপর হামলা চালান।
ছেলের সামনেই পুলিশের এসআইকে পিটিয়ে হত্যা

গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী এলাকায় নিজ বাসার সামনেই আলতাফ হোসেন নামে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক এসআই’কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার এ ঘটনা ঘটে। এসময় আলতাফের ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও (২৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত আলতাফ হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের মৃত জুরাইন আলী শেখের ছেলে।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম। ওসি বলেন, ‘নিহত আলতাফ হোসেন রাজধানীর মালিবাগ জোনে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসআই পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় ভাড়া থাকতে।। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর বড়দেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় গেঞ্জি ফ্যাক্টরির সামনে একটি প্রাইভেট কার রাখাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল উক্ত এস আই ও তার ছেলের উপর হামলা চালায।। তার ছোট ছেলের নাম আরিফ।
তাদের উদ্ধার করে রাত ৯টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান , হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই আলতাফ হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার মূল হোতা জহিরুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।সে ওই প্রাইভেট কারের মালিক ও ড্রাইভার। রোববার ভোরে আমিনবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম।





